১ জুন ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে বড় এক চাল চালল চীনের শীর্ষস্থানীয় লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান এসএফ গ্রুপ। সিঙ্গাপুরের বিশ্বখ্যাত চাঙ্গি বিমানবন্দরকে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম ‘বিদেশি কার্গো হাব’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
https://64854514144d5ef7a8c29421ebe7aa3e.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-45/html/container.htmlএই কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে কেবল পণ্য পরিবহন নয়, বরং পুরো এশিয়াজুড়ে বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা এবং ভ্রমণ খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং ব্যস্ততম বিমানবন্দর। বৈশ্বিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এর ভৌগোলিক অবস্থান অনন্য। এসএফ গ্রুপ এবং চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপ (সিএজি) এর মধ্যে সই করা এই সমঝোতা স্মারকের ফলে, এখন থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ওশেনিয়া অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের প্রধান ‘গেটওয়ে’ বা প্রবেশদ্বার হবে সিঙ্গাপুর।
বাংলাদেশের আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের জন্য এটি একটি বড় মাইলফলক হতে পারে।
দ্রুততম পণ্য পরিবহন : সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকার ফ্লাইটের সময় মাত্র ৪ ঘণ্টা। জরুরি ইলেকট্রনিক্স পার্টস, পচনশীল পণ্য বা হাই-টেক পণ্য এখন সিঙ্গাপুর হাব হয়ে দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছাবে।
রপ্তানির নতুন পথ : বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা সিঙ্গাপুরকে ‘ট্রানশিপমেন্ট পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের বাজারে আরও সহজে ও কম খরচে পণ্য পাঠাতে পারবেন।
খরচ হ্রাস : এসএফ গ্রুপের বিশাল নিজস্ব বিমান বহর (৯০টির বেশি কার্গো বিমান) থাকায় এবং চাঙ্গির মতো দক্ষ বন্দরে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় পণ্য হ্যান্ডলিং খরচ ও সময়—উভয়ই কমে আসবে।
বাণিজ্যিক হাব হলেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়বে ভ্রমণ খাতেও। চাঙ্গি বিমানবন্দরের মতো আন্তর্জাতিক হাবের সক্ষমতা বাড়লে এবং বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে ওই রুটে যাত্রীবাহী বিমানের সংখ্যা ও সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি পায়। পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ শক্তিশালী হওয়ায় পর্যটকদের মালামাল পরিবহন এবং ট্রানজিট সুবিধা আরো উন্নত হবে।
এসএফ গ্রুপের চেয়ারম্যান ডিক ওয়াং বলেন, ‘চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপের সঙ্গে এই অংশীদারি আমাদের তিনটি প্রধান অঞ্চলে সম্পদ ও সক্ষমতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে।আমরা বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেরা সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
অন্যদিকে, চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ইয়াম কুম ওয়েং এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘চাঙ্গি বিমানবন্দরে এসএফ গ্রুপের বিমান সংযোগ এবং লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করতে মুখিয়ে আছি।’
বিশ্লেষকদের মতে, ডিএইচএল বা ফেডেক্স এর মতো প্রতিষ্ঠিত কম্পানিগুলোর জন্য এই অঞ্চলে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াবে এসএফ গ্রুপ। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠানটি তাদের আয়ের ৩০ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্জনের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, সিঙ্গাপুরের এই নতুন হাবটি হবে তার মূল স্তম্ভ।
উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরে এই লজিস্টিক হাব স্থাপনের ফলে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো বিশ্ব বাণিজ্যের মূল ধারার সঙ্গে আরো নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
সূত্র : বিজনেস টাইমস
